Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

দুটি গ্রুপে বিরোধ, বিদেশে থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ

 

দুটি গ্রুপে বিরোধ, বিদেশে থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ
দুটি গ্রুপে বিরোধ, বিদেশে থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর বাড্ডায় জনসমক্ষে গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল আহসান সাধনের কিলিং মিশনে অংশ নেয় চারজন। তাঁর ওপর গুলি চালায় দু’জন শুটার। তাদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে কেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়রা বলছেন, বাড্ডা সন্ত্রাসকবলিত এলাকা। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য নিয়ে মাঝেমধ্যেই লাশ পড়ে সেখানে। এ ছাড়া ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডের’ দুটি গ্রুপের বিরোধ রয়েছে। একদিকে ডালিম, রবিন ও মাহাবুব গ্রুপ এবং অন্যদিকে মেহেদী হাসান কলিংস গ্রুপ। মেহেদী যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং তাঁর প্রতিপক্ষ তিনজন মালয়েশিয়া থেকে বাড্ডা এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। 

একটি সূত্র জানিয়েছে, ডালিম, রবিন ও মাহবুব গ্রুপের সঙ্গে নিহত সাধনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। মধ্যবাড্ডা এলাকায় বিএনপি নেতা যে ইন্টারনেট ব্যবসা করতেন, তার পেছনের শক্তি হিসেবে থাকতে পারে রবিন গ্রুপ। এই গ্রুপের সঙ্গে মেহেদী গ্রুপের বিরোধ দীর্ঘদিনের। হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য কিংবা রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ড কিনা সেটিও দেখা হচ্ছে।


অবশ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মার্কেটে দোকান বরাদ্দ, বাড্ডা এলাকায় কেবল টিভি সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড। গুলি করেছে বাড্ডার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মেহেদী গ্রুপের অনুসারীরা। গত বৃহস্পতিবারও আরেকবার হত্যা মিশনে নামে তারা। ২১ মার্চ গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে সুমন মিয়া ওরফে টেলি সুমন (৩৩) নামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই সাধনকে হত্যা করা হয়েছে কিনা– তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এ ব্যাপারে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। কিলিং মিশনে সরাসরি চারজনের অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সাধনকে গুলি করেছে দু’জন। বাকি দু’জন অদূরে অবস্থান করছিল। এই চারজন ছাড়াও ঘটনাস্থল ও আশপাশে তাদের আর কোনো সহযোগী ছিল কিনা সেটিও দেখা হচ্ছে। 

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দু’জনের বাড্ডা এলাকার আওয়ামী লীগের সাবেক একজন এমপির সঙ্গে ছবি রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে এ ব্যাপারে কোনো তথ্যপ্রমাণ সমকাল পায়নি। ওই দু’জনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা অনুসন্ধান চালাচ্ছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

রোববার রাতে মধ্যবাড্ডার গুদারাঘাটের চার নম্বর সড়কে সাধনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গতকাল সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে তাঁর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে নেওয়া হয় মধ্যবাড্ডায়। 

সাধনের স্ত্রীর বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন সরকার রাতে জানান, উত্তরা কামারপাড়া কবরস্থানে ভগ্নিপতির মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();
//]]>